বিজ্ঞাপন:
নেশার টাকার জন্য শ্বশুরবাড়ির স্বর্ণালংকার লুট, জামাতা ও তার বাবা আটক

নেশার টাকার জন্য শ্বশুরবাড়ির স্বর্ণালংকার লুট, জামাতা ও তার বাবা আটক

ডেস্ক রিপোর্ট :: শ্বশুরের বাসা থেকে স্বর্ণালংকার চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়লেন জামাতা ও তাঁর বাবা। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। গতকাল রোববার রাতে নেত্রকোনার মদন পৌর সভার শ্যামলী রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ওই বাবা–ছেলে জানিয়েছেন, তাঁরা নেশার টাকার জন্য চুরি করতে গিয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে ওই এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

আটক দুজন হলেন ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা সদরের মধ্যবাজার এলাকার বাসিন্দা বরুণ চন্দ্র কর্মকার (৪৫) ও তাঁর ছেলে তরুণ চন্দ্র কর্মকার (২২)।


প্রায় দেড় বছর আগে মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও পৌরসভার শ্যামলী রোড এলাকার বাসিন্দা অমূল্য চন্দ্র দাসের মেয়ের সঙ্গে বরুণ চন্দ্র কর্মকারের ছেলে তরুণের বিয়ে হয়। বিয়ের দুই মাস পর তরুণ তাঁর স্ত্রী ও বাবাকে নিয়ে মদনে শ্বশুরের বাসায় চলে আসেন। কিছুদিন পর তরুণ তাঁর স্ত্রী ও বাবাকে নিয়ে ওই এলাকায় অন্য একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা ও থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তরুণের বাবা পৌরসভার মাতৃ জুয়েলার্স নামে একটি সোনার দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু বাবা-ছেলে উভয়েই নেশায় আসক্ত হওয়ায় বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে নেশার টাকা ধারদেনা করেন। এতে পাওনাদারেরা তাগাদা দিচ্ছিলেন। সপ্তাহখানেক আগে নেশার টাকা জোগানো ও পাওনাদারের টাকা পরিশোধ করতে তরুণ তাঁর শ্বশুরের কাছে কিছু টাকা ধার চান। কিন্তু টাকা না পেয়ে বাবা–ছেলে মিলে ওই দিন শ্বশুরের বাসা থেকে ছয় আনা সোনার গয়না আলমারি থেকে লুট করে নিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে এ নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়। এর মধ্যে গতকাল রোববার রাত ৯টার দিকে আবারও বাবা–ছেলে মিলে শ্বশুরের ঘরে চুরি করতে যান। এ সময় আলমারি ভেঙে চার আনা ওজনের কানের দুল ও কিছু টাকা বের করার সময় তাঁরা হাতেনাতে ধরা পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।

এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, বাবা-ছেলেকে স্থানীয় মানুষেরা আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাঁরা নেশার টাকা জোগাতে চুরি করার কথা স্বীকার করেন।

অভিযুক্ত বরুণ চন্দ্র কর্মকার সাংবাদিকদের বলেন, ‘টাকার চাপ ছিল। তাই কয়েক দিন আগে বিয়াইয়ের ঘর থেকে স্বর্ণালংকার নিয়ে বিক্রি করে দিছিলাম। এটা করা আমাদের ঠিক হয়নি।’ আর তরুণ চন্দ্র কর্মকার বলেন, ‘আমি আগে নেশা করতাম, কিন্তু এখন আর ইয়াবা খাই না। আমার শ্বশুরের ঘর থেকে সোনার অলংকার চুরি করছি আরও এক সপ্তাহ আগে। এটা করা আমাদের ঠিক হয়নি। আজ (গতকাল) চুরি করতে গিয়া ধরা পড়লাম। এখন লজ্জা লাগতাছে।’

এ বিষয়ে অমূল্য চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমার মেয়ের জামাই ও তার বাবা দুজনই নেশাগ্রস্ত। আমি আগে ভালো করে খোঁজখবর না নিয়ে মেয়ের বিয়া দিয়া ভুল করছি। চুরি করার ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়ে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসনাত।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com